Post by Prof. Dr. Golam M. I. Chowdhury

Senior Research Scientis, Yale University School of Medicine

Yale School of Medicine #Bangladesh "জেনারেল কিকি—এ সেই বিড়াল, যে ৫টি হরিণ তাড়িয়ে বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষা করেছে" বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিকির মত জেনারেল চাই! আমাদের ছোট্ট বিড়ালটির নাম কিকি। আকারে সে ছোট, কিন্তু সাহসে ও মনোবলে যেন একেবারে বাঘের মতো। কিকি সারাক্ষণ আমাদের বাড়ি ও বাড়ির চারপাশ পাহারা দেয়। কোনো পশু, পাখি বা বন্য প্রাণী যদি বাড়ির আশেপাশে আসে—হরিণ হোক, টার্কি হোক, খরগোশ, কাঙ্ক কিংবা অন্য যেকোনো বন্য প্রাণী—কিকি কাউকেই ছাড় দেয় না। দেখামাত্রই তাড়া করে এবং বাড়ির বাউন্ডারির ভেতরে কাউকে থাকতে দেয় না। সে নির্দ্বিধায় সবাইকে বাউন্ডারির বাইরে তাড়িয়ে নিয়ে যায়। কাউকে সে ভয় পায় না, কাউকে সে সহ্য করে না। কিন্তু যেদিনের ঘটনাটি বলছি, সেটি ছিল সত্যিই অবিশ্বাস্য। একদিন একসাথে পাঁচটি বড় বড় হরিণ আমাদের বাড়ির আঙিনায় এসে পড়ে। সাধারণত হরিণরা একা বা দুই–তিনটি করে আসে, কিন্তু সেদিন পুরো একটি দল—পাঁচটি হরিণ—একসাথে হাজির। আর তখনই ঘটে যায় অস্বাভাবিক ও বিরল সেই ঘটনা। আমাদের কিকি—একটি ছোট্ট বিড়াল—এক মুহূর্তও দেরি না করে পাঁচটি হরিণকেই একের পর এক তাড়া করে বাড়িছাড়া করে দেয়। হরিণরা প্রথমে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিল। দলের নেত্রী মা হরিণ সামনে এসে কিকিকে ভয় দেখাতে চেয়েছিল, এমনকি আক্রমণের ভঙ্গিও করেছিল। কিন্তু কিকি একচুলও পিছু হটেনি। বরং আরও সাহস নিয়ে সে সামনে এগিয়ে গেছে। একবার নয়—দ্বিতীয়বারও মা হরিণ ফিরে এসে কিকিকে তাড়াতে চেয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই কিকি আরও দৃঢ়ভাবে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। শেষ পর্যন্ত মা হরিণ ভয়ে পালাতে বাধ্য হয়, এবং সঙ্গে সঙ্গে তার চার সঙ্গীও বনের দিকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এই পুরো ঘটনাটি আমার ক্যামেরায় ধরা পড়ে—যা সত্যিই বিরল সৌভাগ্যের বিষয়। শুরুতে আমি হরিণদের ভিডিও করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু বুঝতেই পারিনি কখন কিকি দৃশ্যে ঢুকে পড়েছে। হঠাৎ দেখি—কিকি ক্যামেরার ফ্রেমে, একদিকে আমার দিকে তাকাচ্ছে, আর অন্যদিকে হরিণদের গতিবিধি লক্ষ্য করছে। যেন সে বারবার নিশ্চিত হতে চাইছে—আমি কাছে আছি কি না। তার দৃষ্টি বলছিল, “তুমি কাছে থাকলে আমি পাঁচটা কেন, দশটা হরিণকেও ভয় পাই না।” সঠিক মুহূর্ত বুঝে সে কৌশলগতভাবে অবস্থান নেয়, প্রথমে দলনেত্রী মা হরিণকে লক্ষ্য করে এবং তারপর একের পর এক সবাইকে তাড়িয়ে দেয়। সবশেষে কিকি আমার কাছে এসে আদর নিতে শুরু করে। তার চোখে-মুখে স্পষ্ট ছিল এক ধরনের গর্ব—যেন সে বলতে চাইছে, “আমি সবাইকে তাড়িয়ে দিয়েছি। আমাদের বাড়িতে কেউ ঢুকতে পারবে না। নিরাপত্তার দায়িত্ব আমি নিয়েছি।” আমার মনে হয়, একটি ছোট্ট বিড়ালের পক্ষে পাঁচটি বড় হরিণকে তাড়িয়ে দেওয়ার এই ঘটনা সত্যিই পৃথিবীতে বিরল। কিকি শুধু একটি পোষা প্রাণী নয়—সে আমাদের পরিবারের একজন আদরের সদস্য, একজন সত্যিকারের রক্ষী। বাংলাদেশের জন্য আমরা ওয়াকার-উজ-জামান নন—বরং কিকির মতো একজন জেনারেল চাই। এমন একজন সাহসী, দৃঢ়চেতা ও আপসহীন রক্ষক, যিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্ন প্রহরীর মতো শত্রুদের তাড়িয়ে বেড়াবেন এবং দেশের সীমান্তের বাইরে রাখতে বাধ্য করবেন। যিনি কিকির মতোই ভয়হীন—অভ্যন্তরীণ ও বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে সদা সতর্ক ও আপসহীন। এমন জেনারেলই জাতির প্রকৃত রক্ষক হতে পারেন। ধন্যবাদ কিকি। আর আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ—এই অবিশ্বাস্য দৃশ্যটি দেখার জন্য। এই ঘটনা দেখে যদি আপনাদের মনে কোনো প্রশ্ন জাগে বা আপনারা উপভোগ করে থাকেন, তবে অবশ্যই প্রশ্ন করুন। কিকি—আমাদের পরিবারের সবচেয়ে সাহসী ও আদরের এক সদস্য।

Post content

Video Content