Post by Nazmul Hossain
Human Capital & Organization Development Professional | Training & Capability Development Specialist | Built 16,000+ Professionals
লাইফস্টাইল ইনফ্লেশন। Psychology-তে একটা টার্ম আছে, hedonic treadmill; মানে হলো, আপনি যত বেশি পাবেন, আপনার baseline happiness ততই সরে যাবে সামনের দিকে। ট্রেডমিলে যেমন আপনি দৌড়ান, কিন্তু জায়গা থেকে একচুলও নড়েন না— ঠিক তেমনি। গাড়ি বদলান, বাসা বদলান, ঘড়ি বদলান— কিন্তু ভেতরের তৃপ্তির কাঁটাটা সবসময় "আরেকটু হলে ভালো হতো"-তেই আটকে থাকে। কোথায় যেন পড়ছিলাম, ইকেয়ার (IKEA) প্রতিষ্ঠাতা Ingvar Kamprad, বিশ্বের অন্যতম ধনী মানুষ হয়েও, সারাজীবন পুরনো ভলভো চালিয়েছেন, ফ্লি মার্কেট থেকে কাপড় কিনেছেন। এটা তার কৃপণতা ছিল না বলেই মনে হয়েছে— এটা ছিল একটা বোঝাপড়া, যে জিনিসের পেছনে ছুটে কখনো মন ভরে না। আমাদের ধর্মেও এই চিরন্তন সত্যটাই অন্যভাবে বলা আছে। হাদীসে আছে, আদম সন্তানের যদি সোনার দুটো উপত্যকাও থাকে, সে তৃতীয়টা চাইবে। তার পেট ভরাতে পারে শুধু মাটি, অর্থাৎ মৃত্যু। এটা কোনো নিরাশাবাদী কথা না— এটা একটা diagnosis; চাওয়ার এই চক্রটা কখনো নিজে থেকে থামে না, থামাতে হয়। কুরআনে যে শব্দটা এর বিপরীতে আসছে, সেটা 'কানাআত'। Sufficiency বা যথেষ্ট মনে করার সাহস। ইসলাম পরিশ্রম আর সম্পদ অর্জনকে নিষেধ করে না, বরং উৎসাহ দেয়। সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সম্পদ অন্তরে জায়গা নিয়ে নেয়। হাতে থাকা সম্পদ ঠিক আছে, অন্তরে থাকা সম্পদ বিপজ্জনক। করপোরেট জীবনেও এই একই প্যাটার্ন দেখেছি। প্রমোশন পেলে যে excitement, ছয় মাস পর সেটা normal হয়ে যায়, নতুন target চলে আসে। স্যালারি বাড়ে, lifestyle-ও বাড়ে সমান তালে, ফলে ব্যাংক ব্যালান্সে কোনো পরিবর্তনই আসে না। Behavioral Economics এটাকে lifestyle inflation বলে। তবে এর আসল নাম দেয়া উচিত ছিল contentment deficit. সমস্যাটা জিনিসে না, তুলনায়। যতক্ষণ আমি অন্যের হাতে থাকা জিনিসের দিকে তাকিয়ে নিজের যথেষ্টতা মাপব, ততক্ষণ কোনো আয়ই যথেষ্ট মনে হবে না। যথেষ্ট হওয়ার অনুভূতিটা ব্যাংক ব্যালান্সে থাকে না। ওটা একটা সিদ্ধান্ত— যেদিন নেবেন, সেদিন থেকেই আপনি ধনী।