Post by Mohammad Abu Ali
RSM @Super Star Group || Ex ZSM @Transtec Lighting & Accessories
50 জনের উপর বাংলাদেশী এখন বিভিন্ন multinational কোম্পানির টপ এক্সিকিউটিভ পদে থেকে নেতৃত্ব দান করছেন। এর মধ্যে সর্বশেষ সংযোজন জাভেদ আখতার, Unilever Bangladesh এর CEO & Managing Director হিসেবে যিনি দায়িত্ব শুরু করেছেন পহেলা জুলাই থেকে। আমাদের লোকাল কোম্পানিগুলোর সাথে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর এখনো অনেক পার্থক্য রয়েছে। MNC গুলোর গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড কালচার, বিজনেস স্ট্রাটেজি, প্রসেস, ম্যানেজমেন্ট থিঙ্কিং এবং লিডারশীপ স্টাইল মেইনটেইন করার জন্য দশ বছর আগ পর্যন্তও একতরফা ভাবে বেছে নেয়া হতো বিদেশি CEO দের। তবে এই প্রেফারেন্স শুধুমাত্র MNC তেই নয়। সপ্তাহখানেক আগে Doctor of Business Administration (DBA) প্রোগ্রাম এর ‘Advanced Quantitative Method’ কোর্সে প্রফেসর এ. কে. এনামুল হক স্যার একটা রিসার্চ পেপার ডিসকাস করছিলেন। সেখানে লক্ষ্য করলাম - বাংলাদেশের ইকোনমির লাইফলাইন RMG ইন্ডাস্ট্রিতে 84% ম্যানেজমেন্ট রোলে রয়েছে বিদেশীরা! সুখবর হচ্ছে - গত কয়েক বছরে এই দৃশ্যপট অনেকটাই পরিবর্তন হতে শুরু করেছে। ব্যাংক, টেলিকম, টোবাকো, FMCG প্রায় সব সেক্টরেই এখন একে একে home-growth CEO দের নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে BAT, GP, Robi, SCB এর সাথে যোগ দিল Unilever Bangladesh. এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে সামনের দিনগুলোতে সব MNC তেই আমাদের দেশী CEO রা নেতৃত্ব হাতে তুলে নেবেন আশা করি। কিন্তু এই কাজটা শুনতে যতটা সহজ শোনাচ্ছে বাস্তবে ততটা নয়। ট্রেডিশনাল বায়াস এবং Glass ceiling ভেঙ্গে MNC গুলোর সর্বোচ্চ পদে আসীন হবার জন্য Rumee Ali, Abrar Anwar, Kamran Bakr, Shehzad Munim, Yasir Azman, Mahtab Uddin, Javed Akhtar এর মতো ব্যক্তিদেরকে কম স্যাক্রিফাই করতে হয় নি। নিজেদের ক্যাপাবিলিটির প্রমাণ দেবার পাশাপাশি বারবার চ্যালেঞ্জ করতে হয়েছে status quo কে, দিতে হয়েছে সর্বোচ্চ ইফোর্ট। তারপরেই নিজের যোগ্যতা বলে তারা এই দ্বায়িত্ব বুঝে পেয়েছেন। কিন্তু তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র নিজেকে সর্বোচ্চ স্থানে নিয়ে যাওয়াটা নয়। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরে এই টপ এক্সিকিউটিভরা নিজ হাতে তৈরি করবেন শত শত হাই পারফরমিং টপ লিডারস। এরপর তারা দ্বায়িত্ব নিতে যাবেন দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে, আর তাদের তৈরি করা লিডারদের মাঝেই কেউ পরবর্তীতে হাল ধরবে তার স্থানে। কিন্তু এই ম্যাসিভ চেইঞ্জ তো শুধুমাত্র জাভেদ আখতার, ইয়াসির আজমান, সেজাদ মুনিমরা একা একা আনতে পারবে না। অল্প কিছু ছাড়া আমাদের বেশিরভাগ একাডেমিক ইন্সটিটিউশন এখন পর্যন্ত গ্রেট লিডার হবার গাইডলাইন দিতে চরম ভাবে ব্যর্থ। কোম্পানিগুলো এন্ট্রি লেভেলে ভাল ক্যান্ডিডেট বেছে নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যথেষ্ট পরিমাণ স্কিলড মিড লেভেল ম্যানেজার তৈরি করতে পারছে না। কোয়ালিটি লিডার তৈরি করতে হলে এমপ্লয়ীদেরকে পুরোপুরি শুষে নেবার চেষ্টা বাদ দিয়ে তাকে ট্রেইনাপ করার জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং অর্থ ইনভেস্টমেন্ট করতে হবে। আর, সামগ্রিকভাবে আমাদের জাতিগত মানসিকতাতেও আসতে হবে ব্যপক পরিবর্তন। মিনিংলেস ভ্যালুলেস টপিকের পিছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করা বাদ দিয়ে আমাদের প্রোডাক্টিভ কাজে ফোকাস করা শিখতে হবে। বের হয়ে আসতে হবে হার্ম্ফুল অফিস পলিটিক্স, গসিপিং, ব্যাক বাইটিং এবং টক্সিক কালচার থেকে। সর্বোপরি, একজন ব্র্যান্ড প্র্যাক্টিশনার্সকে নিজের limiting belief থেকে বের হয়ে সর্বোচ্চটুকু উজাড় করে দেবার মানসিকতা তৈরি করতে হবে, নিজের ক্যাপাবিলিটির উপর বিশ্বাস থাকতে হবে, নিজেকে পুরোপুরি তৈরি করাতে অনেক অনেক বেশি ইফোর্ট দিতে হবে। আর এজন্য সবার আগে তৈরি করতে হবে - নিজেকে! (Collected)