Post by Md. Abdullah Al Kabir
10+ Years Cross-Industry Mastery (MNC & Conglomerates) | FMCG • Tobacco • MICE • ICT & EV • Construction | MBA (JU) • LL.M LL.B
মুখোশধারী সমাজের আয়না Dr susoma এবং Dr.Kushol—দুটি উজ্জ্বল নক্ষত্র। দীর্ঘ কয়েক দশকের দাম্পত্য জীবন তাদের, যা অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। কিন্তু আমাদের এই ডিজিটাল যুগে, কারো ব্যক্তিগত জীবনের নীরবতা বা কোনো ধরনের সংকট যেন অন্যদের ভিউ পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিন হঠাৎই গুঞ্জন উঠল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেন একদল শকুন বসেছিল শিকারের অপেক্ষায়। Dr.Susoma ও Dr.Kushol জীবনের একটা অধ্যায় নিয়ে শুরু হলো এক নোংরা খেলা। কেউ একজন ইউটিউবে একটি কুরুচিপূর্ণ ভিডিও পোস্ট করল, আর মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ল টিকটকার আর তথাকথিত ‘মোবাইল সাংবাদিক’দের ভিড়ে। যারা কখনোই সাংবাদিকতার ‘জ’ জানে না, তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো রং মিশিয়ে তাদের দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনকে নিয়ে তামাশা শুরু করল। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় ছিল—এই ভিড়ের মধ্যে কেবল অশিক্ষিত মানুষই ছিল না। সেখানে ছিল শিক্ষিত সমাজের একটি অংশ, যারা ডিগ্রিধারী হয়েও নিজেদের মানবিক বোধকে বিসর্জন দিয়ে ওই ট্রল আর অশালীন মন্তব্যের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়েছিল। তাদের কাছে মনে হচ্ছিল, এটি বুঝি তাদের অধিকার—মানুষের শোবার ঘরের গোপন কথা নিয়ে নিজের মতো করে গল্প বানানো। এমনই এক দুপুরে Dr.Susoma ও Dr.Kushol তাদের ড্রয়িংরুমে বসে ছিলেন। বাইরে তখন ডিজিটাল জগতের সেই নোংরা লড়াইয়ের জয়গান। কেউ বলছে সম্পর্কের বিচ্ছেদ, কেউ বলছে ভুল বোঝাবুঝির কথা—সবই কাল্পনিক। ড. কুশল যখন জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দূরের আকাশ দেখছিলেন, তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে Dr.Susoma বললেন, "আমরা কি তবে মানুষের ভুলগুলো খুঁজে পেতেই বেশি আনন্দ পাই?" Dr.Susoma মৃদু হেসে বললেন, "আমরা আসলে আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজের চেহারাটা দেখতে চাই না, বরং অন্যের আয়নায় নিজের নোংরা মুখটাই খুঁজে নিতে বেশি ভালোবাসি। তাই আমরা আজ মানুষ থেকে গিরগিটি হয়ে গেছি, প্রতি মুহূর্তে রূপ বদলাচ্ছি।" তাদের এই আলাপচারিতা কেউ শুনতে পেল না। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন সেই সস্তা ব্লগারদের হুংকার চলছে। তারা তখনো ভাবছে, এই কুৎসা রটানোর মাধ্যমেই তারা ভাইরাল হবে, তারা সফল হবে। অথচ, তারা বুঝতে পারছে না—একজন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অপব্যাখ্যা করতে গিয়ে তারা আসলে নিজের মনুষ্যত্বটাকেই বিলিয়ে দিচ্ছে। আমাদের সমাজটা আজ এমনই এক পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে অন্যের সমালোচনা করার চেয়ে নিজের উন্নতির জন্য ‘নিজের চারকায় তেল দেওয়া’র কথা কেউ ভাবছে না। Dr.Susoma ও Dr.Kushol দাম্পত্য জীবন যেমনই হোক, তা তাদের একান্তই ব্যক্তিগত। কিন্তু এই যে সমাজ, যারা একজনের খুশিতে ঈর্ষান্বিত হয় আর দুঃখে উল্লাস করে—এই সমাজ কি কোনোদিন প্রকৃত মানুষ হবে? হয়তো কোনো একদিন মানুষ বুঝবে—অন্যের ব্যক্তিগত জীবনের কাঁটা উপড়াতে গিয়ে নিজের হাতের আঙুলই রক্তাক্ত হচ্ছে। সেই উপলব্ধির দিনটির অপেক্ষায় এখনো অনেক বিবেকবান মানুষ স্বপ্ন দেখেন, প্রার্থনা করেন। পরনিন্দা বা অন্যের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ট্রল করা আসলে আমাদের নিজেদের সংকীর্ণতারই বহিঃপ্রকাশ। প্রকৃত মানুষ হতে হলে অন্যের প্রতি সম্মান ও সহানুভূতি থাকা জরুরি। সমাজ তখনই শুদ্ধ হবে, যখন আমরা একে অপরের দিকে আঙুল তোলা বন্ধ করে নিজের উন্নতির দিকে মনোনিবেশ করব। #theunfilteredkabirpodcast