Post by Kazi H Robin

Regional Ambassador at Alumni UK by British Council | Higher Education Specialist

ভুল করে তৈরি হওয়া এক ‘বেগুনি শার্ট’ যেভাবে বদলে দিল ফ্যাশন দুনিয়া! আমার পেছনে যে সুন্দর কাঁচে ঘেরা শো-রুমটি দেখছেন, প্রথম দেখায় মনে হতে পারে এটি আর দশটা সাধারণ শো-রুমের মতই। কিন্তু এই জায়গার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে আজকের ইউরোপের বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ড s.Oliver-এর শুরু। আজ আপনাদের শোনাবো ছোট্ট এক s.Oliver-এর ফ্যাশন জায়ান্ট হয়ে উঠার গল্প। গল্পের শুরুটা ১৯৬৯ সালে, জার্মানির Würzburg শহরের এক কোণে মাত্র ২৫ স্কয়ার মিটারের ছোট্ট একটা পোশাকের দোকান খোলেন বের্নড ফ্রায়ার (Bernd Freier) নামের এক তরুণ। তার না ছিল বড় পুঁজি, না ছিল সফলতার কোনো গ্যারান্টি। তিনি ইউরোপের বিভিন্ন শহরের ট্রেন্ডি পোশাক এনে স্থানীয় মানুষের কাছে বিক্রি করতেন। চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত উপন্যাস Oliver Twist থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে দোকানের নাম রাখলেন 'Sir Oliver'—যাতে নামের মধ্যে একটা আন্তর্জাতিক ও অভিজাত ভাব থাকে। এভাবেই কেটে গেলো ৫ বছর। এরপর এলো ১৯৭৫ সাল, তখন বাজারে 'মাদ্রাজ চেক শার্ট'-এর তুমুল চাহিদা, কিন্তু সাপ্লাই নেই। বের্নড ভাবলেন, “অন্যরা না পারলে আমি নিজেই তৈরি করব!” যেমন ভাবনা তেমন কাজ। সীমিত অর্থ আর ভাষার সমস্যা মাথায় নিয়েই তিনি পাড়ি দিলেন সুদূর ভারতে—ফ্যাক্টরি খুঁজতে। মনমতো ফ্যাক্টরি খুঁজে পেলেন, অর্ডার প্লেস করলেন আর জার্মানি ফিরে এসে অপেক্ষা করতে লাগলেন কবে শিপমেন্ট এসে পৌঁছাবে তার। কিন্তু বিধি বাম! বের্নড ছিলেন বর্ণান্ধ (Color-blind)। তিনি ভেবেছিলেন তিনি নীল রঙের চেক শার্টের অর্ডার দিচ্ছেন। কিন্তু যখন শিপমেন্ট জার্মানিতে পৌঁছাল এবং তিনি বাক্স খুললেন—দেখা গেল সব শার্ট বেগুনি রঙের! যেকোনো সাধারণ মানুষ হয়তো সেখানেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়তেন। ভাবতেন, সব পুঁজি বুঝি জলেই গেল! কিন্তু বের্নড হাল ছাড়লেন না। তিনি ওই বেগুনি শার্টগুলোই আত্মবিশ্বাসের সাথে বাজারে ছাড়লেন। ফলাফল? মানুষ সেই বেগুনি শার্ট লুফে নিল! ভুল করে তৈরি হওয়া সেই শার্টটিই হয়ে গেল তাঁর ব্যবসার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ‘হিট’। চ্যালেঞ্জ কিন্তু এখানেই শেষ হয়নি। ১৯৭৮ সালে এক আইনি জটিলতার কারণে রাতারাতি তাঁর চেনা ব্র্যান্ডের নাম 'Sir Oliver' পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। কিন্তু দমে না গিয়ে তিনি নতুন নাম দিলেন 's.Oliver' এবং নতুন উদ্যমে যাত্রা শুরু করলেন। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পুরুষ, নারী ও শিশুদের ফ্যাশন লাইন থেকে শুরু করে ই-কমার্স—সবখানেই রাজত্ব করতে শুরু করে s.Oliver। সেই ছোট্ট ২৫ বর্গমিটারের দোকানটি আজ আর শুধু জার্মানির বুকে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে s.Oliver-এর বর্তমান সাফল্য এক কথায় অবিশ্বাস্য। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ৩০টিরও বেশি দেশে সরাসরি ব্যবসা পরিচালনা করছে s.Oliver। তাদের নিজস্ব রিটেল স্টোরের সংখ্যাই ১৭৩টি। পার্টনার কোম্পানিগুলোর সাথে যৌথভাবে চলছে আরও ৪০০টি স্টোর। এছাড়া বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,৯৯১টি শপ এবং ২,৫০৭টি ডেডিকেটেড সেলস ফ্লোরে শোভা পাচ্ছে s.Oliver-এর পণ্য! আজ সেই ২৫ বর্গমিটারের ছোট্ট দোকানটি ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ ফ্যাশন জায়ান্ট! #InspirationalStory #soliver #historyinthemaking

Post content