Post by Habibur Rahman
Senior Software Engineer | Go | Node | React | Docker | Kubernetes | Microservices | AWS | gRPC | Elastic Search
Brainstation 23 তে আমি বিশ সালে ইন্টারভিউ দিসিলাম। অনেকগুলা রাউন্ডের মধ্যে একটা অনসাইট রাউন্ড ছিলো। ওখানে ৬০ জনকে ডেকেছিল তারা। পাঁচ জন করে বারো টা টীম বানানো হয়। আমাদের টীমকে একটা বিশাল বড় পোস্টার এর মতন কাগজ দেয়। মার্কার দেয়। প্রশ্ন দেয়। আমরা সবগুলা একটা বড় পেইজে লিখি টীমওয়াইজ। তারপর সবাইকে বলা হয় প্রেজেন্টেশন দিতে হবে। আমার গলা শুকায় যায়। ইউনিভার্সিটি লাইফে প্রেজেন্টেশনের বদলে এসাইনমেন্ট দেয়া আমি কেমনে প্রেজেন্টেশন দিবো? শুনেই আমার গলা শুকিয়ে কাঠ! আমরা জিজ্ঞেস করি, বাংলায় নাকি ইংলিশে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে? আমাদেরকে গাইড করার জন্যে যেই আপু ছিলেন, তিনি জানালেন বাংলা ইংলিশ ব্যাপার নাহ। আমরা সবাই বাংলাতে দিবো ডিসিশান নিই। আমাদেরকে ডাকা হয় মিটিং রুমে। সবার আগে প্রেজেন্ট করবে Md. Hafizur Rahman Arfin . আমি দ্বিতীয়তে দাঁড়াইসি। এক পোস্টারে পাঁচ জন প্রেজেন্ট করবে, এই রকম আর কি। এদিকে আমার পা কাঁপা কাঁপি অবস্থা। আরেফিন বাংলায় শুরু করসে। সাথে সাথে ইন্টারভিউয়ার একজন জানালেন, "Please in English"! এইটা শুনে আমার মনে হচ্ছিলো, আমি অজ্ঞান হয়ে যাবো। আমার হার্টবিট দুইশোগুণ বেড়ে গেসিলো। আমি জীবনে কখনো ইন্টারভিউই দেই নাই। প্রেজেন্টেশন দেই নাই। তার উপর ইংলিশতো ভালো মতন লিখতেই পারি না। বলব টা কেমনে? আমার ঘাম ঝরে একাকার। আমি আশা করছি আরেফিন জানাবে, স্যরি আমরা প্রিপারেশনের টাইম পাই নি। আমাদের বাংলায় বলার সুযোগ দিন। কিন্তু না, সে এক মুহূর্ত দেরী না করে, সাথে সাথে ইংলিশে প্রেজেন্ট করা শুরু করসে। আর অনেক ভালো প্রেজেন্টেশন দিয়ে যায়তেসে। আরেফিনের উপর রাগে ক্ষোভে আমার প্রায় কান্না এসে পরতেসিলো। তারপর আমাকে প্রেজেন্ট করার জন্যে যখন ডাকা হয়সে, আমার আর কিছু মনে নাই। আমি অজ্ঞান হয় নাই। কিন্তু প্রপারলী সচেতনও না। আমি শুধু জানতাম, আমার চাকরীটা লাগবে। কারন দুই রাউন্ড ইন্টারভিউ পার হওয়ার পর আমি বন্ধু বান্ধব, আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশি, জুনিয়র সিনিয়র সবাইকে জানাই দিসিলাম যে আমার ব্রেইনস্টেশনে চাকরি হয়ে গেসে। শুধু তাই না, আমার বেতন ৪০ হাজার ধরসে, সেইটাও আগাম জানাই দিসি। কে জানতো ব্রেইনস্টেশন পাঁচ সাত রাউন্ড ইন্টারভিউ নিবে। আমি তো আগে কখনো কোনোদিন অফিস কি জিনিস সেইটাই জানি না। ইন্টারভিউ কি জিনিস সেইটাই জানি না। আমি শুধু জান প্রাণ দিয়ে মান ইজ্জত বাঁচানোর ভয়ে সেদিন ইংলিশে প্রেজেন্টেশন দিসি। কি বলসি জানি না। তারা আমারে ইংলিশে কি জিজ্ঞেস করসে, আর সেগুলার রিপ্লাই কিভাবে দিসি, সেটাও জানি না। আমার যে সেদিন সেই মুহূর্তে কি হয়সিলো, বলতে পারবো না। আমি যে কেন অজ্ঞান হয়ে গেলাম না। জানি না। প্রেজেন্টেশন শেষে, কপালটা ধরে কেউ যদি একবার দেখতো, সিউর আমার ১০৩ ডিগ্রী তাপমাত্রা পায়তো। যেভাবেই হোক, আমি ব্রেইনস্টেশনে টিকে গেসিলাম। কিন্তু আরেফিন কি জানে, তার উপর আমার অনেক রাগ? ২৯০০ পোলাপাইন ইন্টারভিউ দিসিলো, আমরা শুধু ১৭ জন টিকসিলাম। তারমধ্যে একটা সুন্দরী মেয়ে ছিলো, যার সাথে আমার ভালো খাতির ছিল। সে দুই দিন পরেই জাপানে চলে গেসিলো। আমার মনে খুব দু:খ লেগেছিল। আমরা শুধু ১৬ জন ছিলাম সেই ব্যাচে। মাঝেমধ্যে ভাবি, আমার কি আজকের এখানে আসার কথা ছিল? নিজেরে ভেঙে চুরে টুকরা টুকরা কইরা ফেলা লাগসে। মানুষ কত অদ্ভুত। কি থেকে যে কি হয়ে যায়!