Post by Elora Sharmin
Assistant Teacher
“যুদ্ধের মধ্যেও বন্ধ হয়নি তেহরানের একটি বইয়ের দোকান, পাঠকদের ঝোঁক ছিল যুদ্ধসাহিত্যে”। এটি মূলত World Literature Today-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বাংলা অনুবাদ * ২০২৬ সালে ইরানে যুদ্ধ শুরুর পর তেহরানের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু একটি স্বাধীন বইয়ের দোকান প্রতিদিন খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। * দোকানের মালিক ও তার অংশীদার বলেন, বোমায় ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত তারা দোকান বন্ধ করবেন না। অনেক কর্মী শহর ছেড়ে গেলেও তারা নিজেরা থেকে যান। * যুদ্ধের সময় অনেক মানুষ শুধু বই কিনতেই নয়, নিরাপদ ও মানসিক আশ্রয়ের জন্যও দোকানটিতে আসতেন। কেউ কেউ একা বাড়িতে থাকার ভয় এড়াতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেখানে বসে বই পড়তেন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনলে সবাই মেঝেতে বসে অপেক্ষা করতেন। * যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পাঠকদের বইয়ের পছন্দও বদলে যায়। তারা বাস্তব যুদ্ধের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখা সাহিত্য বেশি খুঁজতে থাকেন, যেমন: * Beirut Nightmares — Ghada Samman * Baghdad Diaries — Nuha Al-Radi * Black Butterflies — Priscilla Morris * দোকানটি এর আগেও কোভিড-১৯ মহামারি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অন্যান্য সংকটের মধ্যেও চালু ছিল। মালিকের ভাষায়, “মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই এই দোকানের দরজা বন্ধ করতে পারবে না।” * যুদ্ধবিরতির পরও দোকানটি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। যুদ্ধসাহিত্যের যেসব বই সবচেয়ে বেশি চাহিদা পেয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলোরই সব কপি বিক্রি হয়ে যায়। যুদ্ধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও বইয়ের দোকানটি শুধু ব্যবসার জায়গা ছিল না—এটি পাঠকদের জন্য সাহস, আশ্রয় এবং মানসিক শক্তির একটি প্রতীক হয়ে উঠেছিল।